বদরুন্নেসার সেই শিক্ষিকা রুমা সরকারের জামিন নামঞ্জুর

বদরুন্নেসার সেই শিক্ষিকা রুমা সরকারের জামিন নামঞ্জুর

পুরনো একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে ধর্মীয় উসকানি ও অপপ্রচারের অভিযোগে গ্রেফতার বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক রুমা সরকারের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী এ আদেশ দেন।

দুই দিনের রিমান্ড শেষে এদিন আদালতে হাজির করে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার এসআই শফিকুল ইসলাম। আসামিপক্ষে ১৫-২০ জন আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত ১৯ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর বেইলি রোডের বাসা থেকে রুমা সরকারকে আটক করে র‌্যাব-৩।পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে র‌্যাব তার বিরুদ্ধে রমনা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করে।২১ অক্টোবর রুমা সরকারের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রুমা সরকার সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নোয়াখালীর যতন সাহার হত্যার শিরোনামে একটি অন্য ঘটনার ভিডিও আপলোড করে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল কর্তৃক গুজব সৃষ্টির মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিনষ্টের অপপ্রয়াস চালান, যা বিভ্রান্তিমূলক। প্রকৃতপক্ষে ভিডিওটি গত ১৬ মে বিকাল ৪টার সময় ঢাকার পল্লবী থানাধীন ডি-ব্লকের শাহিন উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার ভিডিও।এ সময়ে সনাতন ধম্বালম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২১ কেন্দ্রিক সহিংসতাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিনষ্টের ঘটনা ঘটানো হচ্ছিল। দেশের এই সময়ে এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে রুমা সরকার গত ১৯ অক্টোবর দুপুরে ফেসবুক লাইভে আসেন।

এর আগে মঙ্গলবার পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পিআর থেকে পাঠানো একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘যতন সাহা হত্যাকাণ্ড’ নামে ফেসবুকে ভাইরাল ভিডিওটি মিথ্যা ও গুজব।

এতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে একটি কুচক্রী মহল গত ১৫ অক্টোবর নোয়াখালীর চৌমুহনীতে যতন কুমার সাহা নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ভিডিও বলে প্রচার করেছে।

প্রকৃতপক্ষে ওই ভিডিওটি হচ্ছে, গত ১৬ মে রাজধানীর পল্লবীতে সন্তানের সামনে সাহিন উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার ভিডিও। পল্লবীর ওই ঘটনার প্রধান আসামিসহ অপর আসামিদের ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।

‘কিন্তু কুচক্রী মহলটি পল্লবীর ওই ভিডিওটিকে এডিট করে যতীন সাহা হত্যাকাণ্ডের ভিডিও হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তথা ফেসবুকে ভাইরাল করছে। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশে ছড়ানো ওই ভিডিওটি প্রচাররকারী মূলহোতাদের ধরতে বাংলাদেশ পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিটসমূহ ইতিমধ্যেই তদন্ত ও আভিযানিক কার্যক্রম শুরু করেছে।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *