২৫ লাখ জনসংখ্যার দেশ খেলবে বিশ্বকাপ সুপার টুয়েলভে

২৫ লাখ জনসংখ্যার দেশ খেলবে বিশ্বকাপ সুপার টুয়েলভে

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ১৬ দলের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ে নামিবিয়ার অবস্থান সবার পেছনে। ১৯তম দল তারা।

কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে র‌্যাংকিংকে কেবল সংখ্যায় পরিণত করেছে দলটি। ক্রিকেটের সব হিসাব-নিকাশ পালটে দিয়ে নতুন ইতিহাস লিখল আফ্রিকার দেশটি।

প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে এসেই টানা দুই ম্যাচে নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে তারা জায়গা করে নিল সুপার টুয়েলভ পর্বে।

কৌতূহল জাগতেই পারে, ক্রিকেটকে কতটা ভালোবাসে নামিবিয়ার জনগণ? তাদের ক্রিকেট ফ্যান কত? নিশ্চয়ই এ সংখ্যা কয়েক কোটি ছাড়িয়ে!

কিন্ত না, সমর্থকদের সংখ্যা কোটি ছাড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না। কারণ দেশটির জনসংখ্যাই ২৫ লাখের বেশি নয়। সে অর্থে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার চার ভাগের একভাগও না। ক্রিকেটও খেলে অল্প কিছু মানুষ সেখানে। খেলাটির পেছনে তেমন একটা অর্থ খরচ করে না দেশটি। কিন্তু প্রথম পর্বের বাধা পেরিয়ে আফ্রিকার সেই দেশটিই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ল।

শুক্রবার শারজাহে টেস্ট খেলুড়ে আইরিশদের ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে অভিজাত ক্লাবে জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিবেশী দেশটি।

ম্যাচ শেষে নামিবিয়া অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমাসের গর্বিত উচ্চারণ, ‘আমরা খুব ছোট দেশ, ক্রিকেট খেলা মানুষের সংখ্যা আরও কম। নিজেদের নিয়ে আমরা গর্ব করতেই পারি।’

এমন নামিবিয়া দেখে বিস্মিত ক্রিকেটপ্রেমীরা। ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপে নাকাল হয়ে বিদায় নেয়া দেশটির এতোটা উন্নতি!

ওই বিশ্বকাপে একটা লজ্জার রেকর্ড আছে নামিবিয়ার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৫ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল দলটি। ওয়ানডে বিশ্বকাপে যা দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। ওই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাকগ্রা নিয়েছিলেন ৭ উইকেট।

নিজেদের গ্রুপে নামিবিয়াকে পেয়ে মশকো করেছিল ভারত। সৌরভ গাঙ্গুলী, শচীন টেন্ডুলকাররা সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন নামিবিয়ার বিপক্ষে।

আর এবার সেই নামিবিয়া পড়ল ভারতের গ্রুপেই। কিন্তু গত ১৮ বছরে ক্রিকেটে ব্যাপক উন্নতি সাধন করেছে দলটি।

তাই এবার প্রশ্ন উঠতে পারে, বিরাট কোহলি তার অগ্রজদের মতো মশকরা করবেন কী? সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *