ভোট দিতে এসে জানলেন নির্বাচন স্থগিত

ভোট দিতে এসে জানলেন নির্বাচন স্থগিত

দীর্ঘ নয় বছর পর হাইকোর্টের নির্দেশে নালিতাবাড়ী নৃ-গোষ্ঠীর ট্রাইব্যাল ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের ভোট গ্রহণের নির্ধারিত দিন ছিল আজ বৃহস্পতিবার।

সকাল থেকে টিডব্লিউএর এক গ্রুপের ভোটাররা উপজেলা পরিষদ কেন্দ্রে ভাট দিতে আসেন। কিন্তু এসে জানতে পারেন, প্রতিপক্ষের জজ আদালতে মিস আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

এতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ভোট দিতে আসা সহস্রাধিক ভোটার। তারা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তিন দিনের মধ্যে ভোট গ্রহণের দাবি জানান।

উপজেলা প্রশাসন ও টিডব্লিউএ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৯ বছর ধরে কোনো নির্বাচন না হওয়ায় উপজেলা টিডব্লিউএর দুইপক্ষ আদালতে মামলা করেন। গত বছর ১১ নভেম্বর আদালত নির্বাচনের পক্ষে রায় দেন। কিন্তু করোনার কারণে নির্বাচন পিছিয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদে ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের ভোটার না করায় ও ভোটার তালিকা হালনাগাদ না করার অভিযোগ এনে একটি পক্ষ গত মঙ্গলবার শেরপুর জেলা জজ আদালতে একটি মিস আপিল করেন।

বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত আগামী ১৮ নভেম্বর শুনানির দিন ধার্য করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নোটিশ পাঠান। এ ব্যাপারে বুধবার ইউএনও সভা করে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন। পরে সমাজসেবা কর্মকর্তা তার কার্যালয়ে নোটিশ সাঁটিয়ে দেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে নির্বাচন স্থগিত বিষয়টি অবগত করেন।

কিন্তু নির্বাচনের পক্ষে একাংশ সদস্যরা সকালে উপজেলা পরিষদে ভোট দিতে আসেন। কিন্তু ভোট স্থগিত হওয়ায় তারা বিক্ষোভ করেন। পরে পরিষদ চত্বরে তিন দিনের মধ্যে নির্বাচন করার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

এ সময় নির্বাচনের পক্ষে নারী-পুরুষ ভোটাররা বক্তব্য দেন। পরে দুপুর ২টার দিকে ‘ভোটের দাবিতে এবং নির্বাচন বন্ধ কেন প্রশাসন জবাব চাই’ স্লোগান দিয়ে একটি মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে ফের অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

এ ব্যাপারে নির্বাচনের পক্ষে জেনারেল সেক্রেটারি প্রার্থী ও বনকুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিরণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে টিডব্লিউএ নির্বাচন বন্ধ। পরে আদালতের মাধ্যমে নির্বাচনের পক্ষে আদালত রায় দিয়েছে। সেই রায় অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসন আজ ভোটের দিন ধার্য করেছেন। আমরা ভোটাররা সভাই সকাল থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থা করছি। এসে জানতে পারলাম ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এটা আমরা মানি না। তিন দিনের মধ্যে ভোট না দিলে আমরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করব।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রতিপক্ষ উপজেলা টিডব্লিউএর বিদায়ী চেয়ারম্যান লুইস নেং মিনজা বলেন, উপজেলা টিডব্লিউএ আগে ছিল ভোটার সংখ্যা সাড়ে পাঁচ হাজার, এখন হচ্ছে দুই হাজার ৯০ জন। এতে প্রায় দেড় শতাধিক ভোটার মরে গেছে। তাই ভোটার হালনাগাদ করে নির্বাচন দিতে আদালতে একটি মিস আপিল করেছি। এর ফলে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।

টিডব্লিউএর নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন নিয়ে পুনরায় আদালতে মামলা করা হয়েছে। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এটা দুই পক্ষকে নোটিশের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। অফিসে নোটিশ সাঁটানো হয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *