৬ ছাত্রের চুল কেটে দেয়া সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

৬ ছাত্রের চুল কেটে দেয়া সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ছয় ছাত্রের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় মঞ্জুরুল কবির মঞ্জুর নামে সেই মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে ছাত্র শাহাদাত হোসেনের মা শাহেদা বেগম বাদী হয়ে শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলা দায়ের করেন। এরপর ওই মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেফতার দেখানো হয়।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে রায়পুর থানার ওসি আবদুল জলিল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ওই মাদ্রাসাশিক্ষককে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তাকে লক্ষ্মীপুর আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে।

এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বামনী ইউনিয়নের কাজিরদিঘীরপাড় এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

মঞ্জু হামছাদী কাজিরদিঘীরপাড় আলিম মাদরাসার সহকারী শিক্ষক ও বামনী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির।

পুলিশ সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীরা গত ১৮ সেপ্টেম্বর শ্রেণিকক্ষে পাঠ্য কার্যক্রমে অংশ নেয়। একপর্যায়ে শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির দশম শ্রেণির (দাখিল) ছয় ছাত্রকে দাঁড় করিয়ে শ্রেণি কক্ষের সামনের বারান্দা আসতে বলেন। এসময় তিনি উত্তেজিত হয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে একটি কাঁচি এনে একে-একে সবার মাথার টুপি সরিয়ে সামনের অংশের চুল এলোমেলোভাবে কেটে দেয়।

পরে তারা লজ্জায় ক্লাস না করেই বেড়িয়ে যায়। এ ঘটনার ১ মিনিট ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শুক্রবার সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে দেখা যায়। ভিডিওতে কয়েকজন ছাত্রকে কান্না করতে দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে হামছাদী কাজির দিঘীরপাড় আলিম মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি রোটারিয়ান রফিকুল হায়দার চৌধুরী বলেন, এ ব্যাপারে শিক্ষকদের সচেতন করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী বা শিক্ষার্থীদের কোনো অভিভাবকই আমাদের কাছে এনিয়ে অভিযোগ করেনি। শিক্ষককে গ্রেফতার না করে, ভবিষ্যতের জন্য সচেতন করে ছেড়ে দেওয়া যেতো।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) পলাশ কান্তি নাথ বলেন, মামলাটি তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে যারা যারা জড়িত, তদন্ত করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *