শরণখোলায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আহত ৩০

শরণখোলায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আহত ৩০

শরণখোলায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় কমপক্ষে ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৫ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং এক নারীসহ পাঁচ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিজয়ী ও পরাজিত ইউপি সদস্যের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহতের এই ঘটনা ঘটে। এছাড়া উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নে পরাজিত প্রার্থীর কর্মীদের দোকান ভাংচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিন প্রার্থী।

সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার বিকেল ৩টার মধ্যে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেজিস্ট্রারে ২০ জনের ভর্তির তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় আরও কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়ে বাড়িতে রয়েছেন। প্রতিপক্ষের ভয়ে তারা হাসপাতালে যেতে পারছেনা না বলে জানিয়েছেন।

উপজেলা বগী, চালিতাবুনিয়া, দক্ষিণ সাউথখালী, বকুলতলা, দক্ষিণ রাজাপুর, গোলবুনিয়া ও লাকুড়তলা এলাকায় এসব হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসব এলাকার মধ্যে সাউথখালী ইউনিয়নের বগী, চালিতাবুনিয়া ও বকুলতলা ওয়ার্ডের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

সাউথখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর চালিতাবুনিয়া ওয়ার্ডের বিজয়ীপ্রার্থী জাহাঙ্গীর খলিফা জানান, ফলাফল ঘোষণার পর রাতে যে যার বাড়ি যাওয়ার পথে পরাজিত প্রার্থী জাফর তালুকদারের কর্মীরা তার কর্মীদের ওপর হামলা চালান। এতে ছয়জন আহত হয়। এদের মধ্যে গুরুতর আহত সাইফুল ইসলাম রুবেল (৪১) ও মনির খানকে (৩৫) খুলনা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা শরণখোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে পরাজিতপ্রার্থী জাফর তালুকদার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মেম্বার জাহাঙ্গীর খলিফার লোকজনরাই আমার ৬-৭জন কর্মীকে মেরে আহত করেছে। সুলতান হাওলাদারের হাত ভেঙে গেছে। কিন্তু তাদের ভয়ে হাসপাতালে নিতে পারছি না। চালিতাবুনিয়া বাজারে আমার তিন কর্মীর দোকান ভাঙচুর করেছে।

৭ নম্বর বগী ওয়ার্ডের পরাজিতপ্রার্থী হানিফ মুন্সির অভিযোগ, বিজয়ী মেম্বার রিয়াদুল পঞ্চায়েত ও তার কর্মীদের ভয়ে তার কর্মীরা একপ্রকার ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। তাদের হামলায় আলী আজগর (৪৮) আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার কর্মী আবু সালেহর মাছের আড়ত ভাঙচুর করেছে রিয়াদুলের লোকেরা

রিয়াদুল পঞ্চায়েতের ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

২ নম্বর বকুলতলা ওয়ার্ডের পরাজিত প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম খান জানান, বিজয়ী দেলোয়ার হোসেন খলিলের লোকেরা তার তিন কর্মীকে মেরে আহত করেছে। এর মধ্যে রাজু মৃধাকে (২৪) খুলনা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া তার তিন কর্মীর দোকান ভাঙচুর করেছে তারা।

দোকানপাট ভাঙচুরের অভিযোগের সঠিক নয় দাবি করে মেম্বার দেলোয়ার হোসেন খলিল বলেন, দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে একটু ঝামেলা হয়েছে। পরবর্তীতে এ ধরণের ঘটনা যাতে না ঘরে সে ব্যাপারে আমার কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর রহমান বলেন, নির্বাচন পরবর্তী টুকটাক সংঘর্ষের খবর শোনা গেছে। এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। সাউথখালী ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকা একটু ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় সেখানে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *