সিলেট-৩ উপ-নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি

সিলেট-৩ উপ-নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি

সিলেট-৩ আসনে সুষ্ঠুভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে শঙ্কা ও সংশয় বিরাজ করছে। এই শঙ্কা ও সংশয়ের মধ্যেই প্রচারণা শেষ হয়েছে। শনিবার এ আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের আকৃষ্ট করতে প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতির ঝড় তুলেছেন। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও পিছিয়ে নেই। তারাও সাধ্যমত সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানো ও সুখে-দুঃখে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

উপ-নির্বাচনে জয়লাভ করলে আধুনিক ও নান্দনিক এলাকা গড়ে তুলবেন ও প্রয়াত এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ শেষ করবেন। এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব।

গ্যাস সংযোগ রাস্তাঘাটসহ স্থানীয় সব সমস্যা অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধান করবেন। এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক।

গরীব-দু:খী মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফোটানই তার প্রধান কাজ। ভোটারদের কাছে গিয়ে এমন প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বহিস্কৃত সদস্য, সাবেক এমপি মোটর গাড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শফি আহমেদ চৌধুরী।

ডাব প্রতীকের কংগ্রেস প্রার্থী জোনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া প্রচারণার মাঠে না থাকলেও তার লিফলেটে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এভাবেই ভোটাদের কাছে গিয়ে ভোট চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেছেন প্রার্থীরা।

আওয়ামীলীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান বৃহস্পতিবার সকালে ফজরের নামাজ আদায় করেই মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন। পরে অসুস্থ দলীয় নেতা-কর্মীদের খোজ খবর নেন। বাড়িতে কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী শেষ বৈঠক করেন। পরে অসুস্থ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমানের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাসায় ছুটে যান।

জাপা প্রার্থী আতিকুর রহমান ভোরে উঠে নামাজ আদায় করে দলীয় সিনিয়র কয়েক নেতার সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনের দিক নির্দেশনা দেন। পরে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাওয়া দাওয়া সেরে বেরিয়ে পড়েন কেন্দ্রের খবর নিতে।

১শ ৪৯ টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে ইতিমধ্যে ৩৪ ভোট কেন্দ্রের তালিকা দিয়ে নালিশ করেছেন জাপা প্রার্থী। এরমধ্যে দক্ষিণ সুরমায় ১৬ টি, ফেঞ্চুগঞ্জে ৮টি, বালাগঞ্জে ১২টি কেন্দ্র রয়েছে।

জাতীয় পার্টির মহাসচি জিয়া উদ্দিন আহমেদ সুষ্ঠু ভোটের দাবি জানিয়ে বলেছেন, সুষ্ঠু ভোট না হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমে গেছে। তাই সরকারের উচিৎ সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা।

দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাপা প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক যুগান্তরকে বলেন, সাধারণ মানুষের শঙ্কা দুর করা প্রশাসনের দায়িত্ব। অবাধ নিরপেক্ষ সুষ্ঠু ভোট হওয়া খুবই প্রয়োজন। কারণ নির্বাচন নিয়ে অন্যান্য দলের অনিহা রয়েছে। এই আসনে উপনির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে সরকারের ভাবমূর্তি উদ্ধার করতে হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, মাঠ পর্যায়ে কিছু পুলিশ কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। আমি পুলিশ প্রশাসন ও রিটার্নিং অফিসারকে বিষয়টি বলেছি। রিটার্নিং অফিসার আমাকে সুষ্ঠু ভোটের আশ্বস্থ করেছেন।

আওয়ামীলীগের প্রার্থী হাবিুবর রহমান হাবিব শঙ্কার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, জাপা প্রার্থীর অভিযোগ সঠিক নয়। নৌকার গণজোয়ার দেখে তিনি প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। তার পরাজয় নিশ্চিত ভেবে, আগেই ভোট কেন্দ্র নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন।সর্বত্রই নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রয়েছে, তার অভিযোগ সঠিক নয়। সুষ্ঠু ভোট হলে নৌকার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবেনা বলে দাবি করেন হাবিব।

বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ ও তদন্ত কমিটি: এদিকে নির্বাচন কমিশন দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের উপজেলায় ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে। তারা নির্বাচনের আগে দুইদিন, পরে দুইদিন ও নির্বাচনের দিন দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচনী যেকোন অপরাধ আমলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত বিচার কাজ সম্পন্ন করতে সিলেটের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান ভূঞাকে দক্ষিণ সুরমায়, অঞ্জন কান্তি দাসকে বালাগঞ্জে ও সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুমন ভূঁইয়াকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তারা ২ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫ দিন নির্বাচনী মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও সিলেট জেলা পুলিশ সুপারকে আদালত পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সশস্ত্র পুলিশ নিয়োগ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে নির্বাচনে ২ সদস্যের বিচারবিভাগীয় একটি নির্বাচনী তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিটির সদস্যরা হলেন,সিলেটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ তাসলিমা শারমিন ও সিনিয়র সহকারী জজ নির্জন কুমার মিত্র।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *