বারবার পদ্মা সেতুতে ফেরির ধাক্কায় আমরা উদ্বিগ্ন

বারবার পদ্মা সেতুতে ফেরির ধাক্কায় আমরা উদ্বিগ্ন

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এলাকায় পদ্মা সেতুর স্প্যানে একটি ফেরির ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডের ধাক্কা লেগেছে। সেতুর ২ ও ৩ নম্বর পিলারের মাঝখান দিয়ে যাওয়ার সময় স্প্যানে ‘বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর’ নামের একটি ফেরির ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডের সঙ্গে এই ধাক্কা লাগে। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

তবে এই ঘটনায় পদ্মা সেতুর কোনো ক্ষতি হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। ফেরিটি মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে যুক্ত হতে পাটুরিয়া ঘাটে যাচ্ছিল।

ঘটনার খবর পেয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, কী কারণে বারবার পদ্মা সেতুর সঙ্গে ফেরির ধাক্কা লাগছে- এ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একটি প্রকল্প। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল। এর মধ্যে কতগুলো ঘটনা ঘটেছে, যা মানুষের মনে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। আমরা উদ্বিগ্ন যে, এখানে বারবার কেন ধাক্কা লাগে। আজকে আবার ধাক্কা লাগার খবর পাওয়া পর মাওয়া ছুটে আসি। বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্টরা যৌথভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্প্যানে কোনো আঘাতের ইমপ্যাক্ট খুঁজে পাননি। আমি এটা বলতে পারি, এখানে কোনো ড্যামেজ পাইনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, আজকের ঘটনায় সেতুর কোনো ক্ষতি হয়নি, কোনো ইমপ্যাক্ট (প্রভাব) খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেতুর উচ্চতা ১৮.৩ মিটার বর্তমানে নদীতে পানি রয়েছে ৬ মিটার। যেহেতু মিডিয়ার নিউজে আঘাত লেগেছে দেখানো হয়েছে তাই এর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রকার অন্তর্ঘাত হয়েছে কি না, তা দেখা দরকার।

এর আগে গত ১৩ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে প্রবল স্রোতের কারণে ওই একই ফেরি সেতুটির ১০ নম্বর পিলারে ধাক্কা দেয়। তখন অবশ্য তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় ১০ নম্বর পিলারে আবার ধাক্কা দেয় ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর। এ সময় ২০ যাত্রী আহত হন।

গত ২৩ জুলাই সকাল ১০টার দিকে পদ্মা সেতুর ৭ নম্বর পিলারের সঙ্গে ধাক্কা খায় রো রো ফেরি শাহজালাল। এ ঘটনায়ও ২০ জন যাত্রী আহত হন। এসব ঘটনায় থানায় জিডি, তদন্ত কমিটি গঠন ও ফেরি চালকদের সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *