কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে যেভাবে হামলা হলো, মার্কিন কর্মকর্তাদের বর্ণনা

কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে যেভাবে হামলা হলো, মার্কিন কর্মকর্তাদের বর্ণনা

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে হামলায় ১৭০ জন নিহত হন। তালেবানের ক্ষমতা নেওয়ার পর এটি প্রথম কোনো জঙ্গি হামলা। ইতিমধ্যে হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস।

বৃহস্পতিবারের হামলার ঘটনা বর্ণনা করেছেন ওই স্থানে দায়িত্বরত মার্কিন কর্মকর্তারা। তাদের বর্ণনা দিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।
যেভাবে আত্মঘাতী হামলা হয়

তখন পড়ন্ত বিকাল। ঘড়িতে ৫টা বেজে ৪৮ মিনিট। হামলাকারী পোশাকের নিচে ২৫ পাউন্ড ওজনের বিস্ফোরক লুকিয়ে রেখেছিলেন। হামলাকারী হেঁটে যাচ্ছিলেন আবে গেটে থাকা মার্কিন সেনাদের দিকে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, তল্লাশির আগে হামলাকারী অপেক্ষা করছিলেন। মার্কিন সেনারা তল্লাশি শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটান ওই হামলাকারী। আত্মঘাতী হামলায় সাধারণত যে ধরনের বোমা ব্যবহৃত হয়, এটি ছিল তার চেয়ে অনেক বড়। বিস্ফোরণ ঘটানোর সঙ্গে সঙ্গেই হামলাকারী মারা যান।

২৫ পাউন্ডের বিস্ফোরক বহন

বোমা হামলার পরই বিমানবন্দরের কাছে তালেবান গুলি ছোড়ে। তারা আরও বলছেন, আবে গেটে গুলিতে আহত হতে পারে কয়েক মার্কিন ও আফগান।

গেটের কাছে হামলার পর ব্যারন হোটেলে দ্বিতীয় আত্মঘাতী বোমা হামলার কথা জানায় মার্কিন সেনাবাহিনী। তবে প্রাথমিকভাবে দেওয়া ওই তথ্যে অসংগতি খুঁজে পেয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

আঞ্চলিক অপারেশনের জয়েন্ট স্টাফ ডেপুটি ডিরেক্টর মেজর জেনারেল হ্যাঙ্ক টেলর বলেন, দ্বিতীয় আত্মঘাতী বোমা হামলার তথ্য ভুল ছিল।

সেনা কর্মকর্তারা বলছেন, আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীর ২৫ পাউন্ডের বিস্ফোরক বহনের ঘটনা ছিল অবাক করার মতো। আত্মঘাতী হামলাকারীরা সাধারণত ১০ থেকে ২০ পাউন্ড বিস্ফোরক বহন করে। ২৫ পাউন্ডের বোমা বিস্ফোরণের পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আবে গেটে যে সেনারা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা মাত্র এক সপ্তাহ আগে কাবুলে আসেন।

বিমানবন্দরের গেটে মার্কিন বাহিনী ও আফগানদের মুখোমুখি অবস্থানের কথা উল্লেখ করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের জেনারেল কেনেথ ম্যাকেনজি বলেন, পরিস্থিতি যুদ্ধের মুখে পড়ার মতো। বিমানবন্দরে ঢোকার অনুমতি দেওয়ার আগে আফগানদের অবশ্যই তল্লাশি করতে হবে। আর তা করতে গিয়ে যেকোনো সময় মার্কিন বাহিনী হামলাকারীর সম্মুখীন হতে পারে।

 

বিমানবন্দরের বাইরে হামলায় এ পর্যন্ত ১৭০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

বৃহস্পতিবারের হামলার ঘটনার পরদিন থেকে বিমানবন্দরের বাইরে আফগানদের ভিড় তুলনামূলক কম দেখা গেছে। হামলার পর বিমানবন্দর এলাকা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। তবে আফগানিস্তান থেকে মানুষকে সরিয়ে নিতে ফ্লাইট চালু রয়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে আরও বলা হয়, স্থানীয় সময় দুপুর দুইটার পর মার্কিন উড়োজাহাজে ১৩ মার্কিন সেনার লাশ নিয়ে যাওয়া হয়।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *