তালেবানকে রুখে দাঁড়ানো কে এই মাসউদ!

তালেবানকে রুখে দাঁড়ানো কে এই মাসউদ!

এ মাসের ১৫ তারিখে তালেবানদের হাতে কাবুল পতনের পর পশ্চিমারা যেভাবে পড়িমরি করে পালাচ্ছে, তখন হঠাৎ করে পাঞ্জশিরে তালেবানকে রুখে দাঁড়িয়েছে বিলাতফেরৎ আফগান যুবক আহমেদ মাসউদ।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে, আফগানিস্তানের পঞ্জশির এলাকায় মাসুদ বাহিনীর হাতে ১০০ তালিবান প্রাণ হারিয়েছে। তালেবান সাম্রাজ্যে হঠাৎ মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে আবির্ভূত হওয়া এই যুবক শাহ আহমদ মাসউদের ছেলে।

শাহ আহমদ মাসউদের নেতৃত্বে পাঞ্জশিরের যোদ্ধারা আশির দশকে সোভিয়েত বাহিনী, এরপর নব্বই দশকে তালেবানকে ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্সের।

কমিউনিস্টবিরোধী যুদ্ধে অসমসাহসিকতার জন্য তাকে ‘পাঞ্জশিরের সিংহ’ নামে ডাকা হয়। আফগানদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবেও তার নাম উচ্চারিত হয়। শাহ আহমদ মাসউদ তালেবানের পূর্বের শাসনামলে আল-কায়েদার ছদ্মবেশী অনুচরের হাতেই নিহত হন।

আফগানিস্তানের একেবারে শেষ প্রান্তের প্রদেশ পাঞ্জশির। পাঞ্জশির নদীর নামেই এই উপত্যকা। কাবুলের মাত্র ৬৫ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে হিন্দুকুশ পর্বতমালায় এর অবস্থান।

এই উপত্যকায় বসে বিদ্রোহের ঘোষণা দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত আফগান সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ। তার সঙ্গে আছেন গনি সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল বিসমিল্লাহ মোহাম্মদী ও আফগানিস্তানের প্রয়াত মোজাহিদীন কমান্ডার শাহ আহমদ মাসউদের ছেলে আহমদ মাসউদ।

বিদ্রোহীরা তালেবানকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের দাবি জানাচ্ছেন। সেই সরকারে তাদের জায়গা দিতে আহ্বান জানাচ্ছেন।

কিন্তু তালেবান বিদ্রোহীদের আত্মসমর্পণের জন্য সময় বেঁধে দিয়েছে। ৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দিয়েছে কাবুল বিজেতারা।

কিন্তু বিদ্রোহীরা আত্মসমর্পণে রাজি নন। অন্যতম বিদ্রোহী নেতা আহমদ মাসউদ আল বলেছেন, আমরা সোভিয়েত ইউনিয়নকে মোকাবেলা করেছি, তালেবানকেও মোকাবেলা করতে সক্ষম হবো। তালেবান পাঞ্জশির দখল করতে চাইলে যুদ্ধ অনিবার্য।

তবে এই বিদ্রোহী নেতা এটাও বলেছেন যে, তালেবান যদি আফগানিস্তানে শান্তি এবং নিরাপত্তার শর্ত পূরণ করতে পারে তাহলে তিনি তার বাবাকে হত্যার জন্য তালেবানকে ক্ষমা করে দেবেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, মাসউদের ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট অব আফগানিস্তানের সঙ্গে লড়াইয়ে ইতিমধ্যেই শতাধিক তালেবানের মৃত্যু হয়েছে।

মাসউদ জানিয়েছেন, শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে তিনি তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন। ইংল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা নেওয়া মাসউদ মনে করেন, শুধু আফগানিস্তান নয়, বিশ্ব শান্তির জন্যও বিপজ্জনক তালেবান।

যে দেশে জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়েছেন পঞ্জশিরের নয়া সিংহ আহমেদ মাসউদ। তাই জীবন বাজি রেখে তালেবান ঠেকানোর যুদ্ধ লড়ছেন ইংল্যান্ডফেরৎ এ সাহসী যুবক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *