মেসি বিহীন বার্সেলোনাকে ঠেকিয়ে দিল বিলবাও

মেসি বিহীন বার্সেলোনাকে ঠেকিয়ে দিল বিলবাও

আথলেটিক বিলবাওয়ের মাঠে নেমে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হয়েছে মেসি বিহীন বার্সেলোনাকে।

প্রায় হারতেই বসেছিল কাতালান দলটি। শেষ দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে হার এড়াতে পারল। তবে জয় না পেয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই ফিরতে হলো স্প্যানিশ জায়ান্টদের।

বিলবাওয়ের মাঠে শনিবার রাতে লা লিগার ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। জয় দিয়ে আসর শুরু করার পর বার্সেলোনার এটাই প্রথম ড্র।

ফেভারিট হিসেবেই নেমেছিল বার্সেলোনা। কারণ চলতি বছর সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে হেড টু হেড চতুর্থ দেখায় তিন ম্যাচে জিতেছে বার্সেলোনা। শুধু সুপার কাপের ম্যাচে জিতেছিল বিলবাও।

কিন্তু এবার আর জয় পেল না বিপক্ষে। করোনার ঝক্কি পোহানোর ৫৩৮ পর সান মামেসে দর্শক ফেরার দিনে দুর্দান্ত খেলেছে বিলবাও।

তবে স্ট্রাইকারদের ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না মারসিলেনোর শিষ্যরা।

উল্টোদিকে বার্সেলোনার আক্রমণ ছিল তুলনামূলক ধারালো।

ষষ্ঠ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত রোনাল্ড কোম্যানের শিষ্যরা।

বাইলাইন থেকে মেমফিসের শট বিলবাওয়ের একজনের পায়ে লেগে দিক পাল্টালে পেয়ে যান অরক্ষিত মার্টিন ব্রাথওয়েট। কিন্তু খুব কাছে থেকেও তিনি শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।

এর চার মিনিট বাদেই এগিয়ে যেতে পারত বিলবাও। ইনাকি উইলিয়ামসকে পাহারায় রেখে গোলরক্ষকের এগিয়ে আসার অপেক্ষায় ছিলেন গার্সিয়া। পেছন থেকে কোনোমতে শট নেন বিলবাও ফরোয়ার্ড।

নেতোকে বোকা বানিয়ে বল চলেও যাচ্ছিল বার্সার জালের দিকে। কিন্তু বার্সেলোনা গোলরক্ষকের হাতে লেগে দিক পাল্টে পাশের জালে গিয়ে লাগে। কর্নার পায় বিলবাও।

কর্নার থেকেই বল পেয়ে ওহিয়ান সানসেট বুলেট গতির শট নেন। কিছুই করার ছিল না নেতোর। কিন্তু ভাগ্য ভালো বার্সার। বল ক্রসবার কাঁপিয়ে ফিরে আসে বল।

১৮তম মিনিটে ফের গোল পেতে পারত বিলবাও। নেতোর দুর্বল পাসে ডি বক্সের কাছাকাছি বল পেয়ে যান সানসেট। পাস দেন উইলিয়ামসকে। তার শট ঠেকিয়ে দারুণ স্লাইডে ঠেকিয়ে দেন ফ্রেংকি ডি ইয়ং।

২২তম মিনিটেও গোল মিস বিলবাওয়ে। জর্দি আলবার দারুন স্লাইডে বলে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন বিলবাওয়ের আলেক্স বেরেনগের রেমিরোর। নয়ত গোল নিশ্চিত ছিল।

৩০তম মিনিটে পুরনো চোট মাথা চারা দিয়ে উঠলে খুড়িয়ে খুড়িয়ে মাঠ ছাড়েন বার্সার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার জেরার্দ পিকে।

বিরতির কিছু আগে পিকের বদলিতে নামা রোনাল্ড আরাহো দর্শণীয় বাইসাইকেল কিকে বিলবাওয়ের জালে বল পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তার আগে ডিফেন্ডার মিকেল বালেনসিয়াগাকে ব্রাথওয়েট ফাউল করায় রেফারি বাঁশি বাজান ফাউলের।

গোলশূন্য প্রথমার্ধ শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হতে না হতে গোল খেতে বসেছিল বার্সেলোনা। পরাস্ত হয়েছিলেন বার্সা গোলরক্ষক নেতো। কিন্তু বেরেনগের নেওয়া শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন আরাহো।

অবশেষে ৫০তম মিনিটে সফল হয় বিলবাও। ইকের মুনিয়ানের কর্নার থেকে চমৎকার হেডে দূরের পোস্ট দিয়ে জাল খুঁজে নেন মার্তিনেস।

সমতায় ফিরতে আক্রমণভাগ আরো ধারালো করতে ৬২তম মিনিটে সের্হি রবের্তো ও ইউসুফ দেমিকে নামান কোম্যান।

৭৩তম মিনিটে ডি ইয়ংয়ের লব ক্রসবারে লেগে ফিরলে বেঁচে যায় বিলবাও। কিন্তু তার দুই মিনিট পরেই রক্ষা হয়নি আর।

রবের্তোর কাছ থেকে বল পেয়ে ডি বক্সে ঢুকে বুলেট গতির শট নেন মেমফিস। গোলরক্ষক হাত ছোঁয়ালেও বলের জালে যাওয়া ঠেকাতে পারেননি।

বার্সেলোনার হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ডাচ ফরোয়ার্ড মেমফিসের এটাই প্রথম গোল।

এরপর বাকি ১০ মিনিট দুদলই চেষ্টা করে যায়। কিন্তু জালের দেখা আর কেউ না পায়নি।

যোগ করা সময়ে নিকো উইলিয়ামসকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন গার্সিয়া। ফ্রি কিক থেকে তেমন কিছু করতে পারেনি বিলবাও।

রেফারির শেষ বাঁশিতে ১-১ ড্রয়ে খেলা শেষ হয়।

ড্র করলেও ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। ২ পয়েন্ট নিয়ে বিলবাও নয়ে।

ম্যাচ হাইলাইটস দেখুন-

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *