আফগান সংকটের মধ্যেও ছুটিতে বাইডেন-কমলা

আফগান সংকটের মধ্যেও ছুটিতে বাইডেন-কমলা

!
তালেবান ক্ষমতা দখলের পরে আফগানিস্তান নিয়ে চাপের মুখে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এই সংকটময় সময়ে তিনি ছুটি কাটাতে শনিবার হোয়াইট হাউস ছাড়বেন বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বাইডেন ছুটি কাটাতে নিজের জন্মভূমি ডেলওয়্যার যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। গত সপ্তাহেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো ফাস্ট লেডি জিল বাইডেনের সঙ্গে দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে এসেছেন।

তবে শুধু প্রেসিডেন্টই নয়, ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও ২০ আগস্ট ছুটি কাটাতে সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম আর ক্যালিফোর্নিয়ার উদ্দেশে ওয়াশিংটন ছেড়েছেন।

যদিও ছুটির মধ্যেও কমলা আফগান ইস্যুতে কাজ করবেন বলে তার কার্যালয় জানিয়েছে। এমনকি বাইডেনও ছুটির মধ্যে কাজ করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, আফগান সংকটের মধ্যেও ছুটি কাটাতে যাওয়ায় বাইডেনের সমালোচনা করেছেন নেটিজেনরা।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে। ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এই প্রথম বাইডেনের জনপ্রিয়তা সর্বনিম্নে পৌঁছেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক জরিপ সংস্থা রাসমুসান রিপোর্টিংয়ের সর্বশেষ সমীক্ষায় বাইডেনের অ্যাপ্রুভাল রেটিং সাত পয়েন্টে কমে গেছে। এই মুহূর্তে ৪৬ শতাংশ মার্কিনি মনে করছেন যে বাইডেন দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য। এতোদিন ৫৩ শতাংশ মার্কিনি মনে করছিলেন বাইডেন দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য।

অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের অ্যাপ্রুভাল রেটিং বেড়ে হয়েছে ৪৩ শতাংশ। ৪৩ শতাংশ মার্কিনি মনে করেছে যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তার।

এদিকে, আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছেন। প্রশ্ন উঠছে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের পররাষ্ট্র নীতি নিয়েও। প্রায় দু’দশক ধরে আফগানিস্তানে থাকার পর হঠাৎ মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত, ২০ বছরেও তালেবান সমস্যার স্থায়ী সমাধান না করা, এত দীর্ঘ সময়েও আফগান সেনাকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ

না দেওয়াসহ এমন বিভিন্ন অভিযোগ উঠছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। অনেকে আর আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানের পিছনে মার্কিন ষড়যন্ত্রের তত্ত্বও তুলে ধরেছেন। এসব কারণে বিশ্ব জুড়েই বাইডেন প্রশাসনের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এমনকি খোদ মার্কিনিরাও ছেড়ে কথা বলছেন না।

তবে আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতির দায় নিতে নারাজ বাইডেন। এ ব্যাপারে বাইডেন বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র সমগ্র বিশ্বে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর।কিন্তু বন্দুকের মুখে নারীদের অধিকার রক্ষা করা যায় না। আফগানদের দেখভাল এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব তালেবানদেরই নিতে হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *