কোরআন ছুঁয়ে শপথ করে আত্মসমর্পণ করল সুন্দরবনের ৯ হরিণ শিকারি

কোরআন ছুঁয়ে শপথ করে আত্মসমর্পণ করল সুন্দরবনের ৯ হরিণ শিকারি

 

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে হরিণ শিকারের সঙ্গে জড়িত ৯ হরিণ শিকারি মুচলেকা দিয়ে পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ করে আত্মসমর্পণ করেছে। সোমবার সকালে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ে ৬ বস্তা হরিণ শিকারের ফাঁসসহ এসব হরিণ শিকারি আত্মসমর্পণ করেন।

এসময় হরিণ শিকারিরা ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে ও পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে সুন্দরবনে আর কখনো হরিণ শিকারের সঙ্গে জড়িত হবে না মর্মে শপথ করেন।

আত্মসমর্পণকৃত শিকারিদের সবার বাড়ি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন সুন্দরবন ও চিলা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তারা হলেন- মো. সাজ্জাক ব্যাপারি (২৫), এমদাদুল সরদার (২৮), মহিদুল শেখ (৩০), রেজাউল শেখ (৩৫), জাহাঙ্গীর মোল্লা (৩০), বাচ্চু মৌছাল্লি (৩৫), আতাউর খান (৩৫), রুবেল শেখ (২৮) ও ফরিদ জোমাদ্দার (৩৮)।

সুন্দরবনের হরিণ শিকারিরা আত্মসমর্পণের সময় সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের স্টেশন কর্মকর্তা মো. ওবায়দুর রহমান, চাঁদপাই রেঞ্জের সহ-ব্যবস্থাপনা সংগঠন সিএমসির বর্তমান আহ্বায়ক ও চিলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম রাসেল, ইউপি সদস্য অলিয়ার রহমান সরদারসহ বনরক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন।

সুন্দরবন চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এনামুল হক বলেন, ৬ বস্তা হরিণ শিকারের ফাঁদসহ ৯ হরিণ শিকারি আত্মসমর্পণ করেছে। এ সময় তারা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে মুচলেকা দেয়ার পাশাপাশি পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে সুন্দরবনে আর কখনো হরিণ শিকারের সঙ্গে জড়িত হবে না মর্মে শপথ করে আত্মসমর্পণ করেন। পরে বনবিভাগ তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়। এছাড়া এদিন দুপুরে আত্মসমর্পণ করার সময় জমা দেয়া ৬ বস্তা হরিণ শিকারের ফাঁদ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

আর আগে প্রায় তিনমাস আগে সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার ১৮ জন হরিণ শিকারি বন বিভাগের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *