করোনায় গাছের পেয়ারা গাছেই নষ্ট হচ্ছে

করোনায় গাছের পেয়ারা গাছেই নষ্ট হচ্ছে

মহামারি করোনার প্রভাবে গত বছর থেকে বাগানে পেয়ারা নিতে পাইকার না আসায় বিক্রয় কমে গেছে। আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এ বছরও বাগানে পেয়ারার ফলন ভালো হয়েছে।

কিন্তু করোনায় বাজারে এর প্রভাব পড়ায় পেয়ারার দাম ও বিক্রয় একেবারে শূন্যের কোটায়। সময়মতো পাইকার না আসায় এখন গাছের পেয়ারা পেকে রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছে জয়পুরহাটের পাঁচবিবির পেয়ারাচাষীরা।

মারুফ ও জার্জিস দুই বন্ধু পড়ালেখার পাঠ শেষে কয়েক বছর চাকরির পেছনে ছুটেছেন। সোনার হরিণ চাকরি না পেয়ে প্রায় ১৫ বিঘা অন্যের জমি লিজ নিয়ে উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের বেড়াখাই এলাকায় পেয়ারার বাগানটি করেন।

বাগানে ২২ শতাধিক থাই-জাতের পেয়ারা গাছের চারা রোপণ করেন। বাগানের জমি ভাড়া, আগাছা পরিষ্কারে শ্রমিক, সার ও কীটনাশকসহ অন্যান্য খরচ বাদে গত কয়েক বছর ভালো লাভ করেন। বর্তমানে তাদের লাভের পরিবর্তে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

বাগান মালিক মারুফ বলেন, প্রথমে বাগানটি করতে সর্বমোট ২০ লাখ টাকা খরচ হলেও গত ২ বছরে প্রায় ১০ লাখ টাকার পেয়ারা বিক্রয় করেছি।

এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় প্রায় ১৫ লাখ টাকা বিক্রির সম্ভাবনা থাকলেও ২ লাখ টাকাও বিক্রি করতে পারিনি। বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে বিভিন্ন জেলার পাইকার না আসায় বাগানের পেয়ারাও বিক্রয় হচ্ছে না। এ কারণে গাছের পেয়ারা গাছেই পেকে নষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় কয়েক জনের কাছে প্রতি কেজি পেয়ারা পাইকারি মূল্য ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রয় করলেও বাজারে এর খুচরা মূল্য ৩০-৪০ টাকা বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. লুৎফর রহমান জানান, উপজেলায় প্রায় ছোট-বড় শতাধিক পেয়ারার বাগান আছে। উপজেলা কৃষি অফিস নিয়মিত এসব বাগান মালিকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *