ঢাকাMonday , 9 May 2022
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. আবহাওয়া
  4. ইসলাম
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. দেশজুরে
  8. বিনোদন
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষা
  11. স্বাস্থ্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তলিয়ে গেছে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমির ধান, দিশেহারা কৃষক

admin
May 9, 2022 11:53 am
Link Copied!

জেলার মোট উৎপাদিত ধানের প্রায় ৪০ ভাগ ধান উৎপাদিত হয় গোপালগঞ্জের এই চান্দার বিলে। বিলটি মুকসুদপুর, কাশিয়ানী ও সদর

উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন উজানী, ননীক্ষীর, জলিরপাড়, কাশালিয়া, সাতপাড় ও হাতিয়াড়ার মধ্যে পড়েছে। চান্দার বিলের সাথে “বড় বিল” নামে আরো একটি বিল রয়েছে। এটিও একসময় চান্দার বিলের অংশ ছিলো।

বিলে ১৫ হাজারেরও বেশি কৃষক পরিবারের জমি রয়েছে। এক ফসলী এসব জমিতে উৎপাদিত বোরো ধানের উপর নির্ভরশীল পরিবাবারগুলো।

চান্দার বিল ও বড় বিলের সাথে সরাসরি এমবিআর ক্যানেল সংযোগ রয়েছে। এমবিআর ক্যানেলের জোয়ারের

পানি ঢুকে বিলের বেশিরভাগ জমির ধান তলিয়ে গেছে। আবার শ্রমিক সংকটের কারণে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটতেও পারছে না।

এমন অবস্থায় সারা বছর কি খাবে আর কিভাবে সংসার চালবে সে ভাবনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক।

পানি বেড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ ক্ষেতের কাচা ও আধাপাকা ধান কাটতে শুরু করেছে অসহায় কৃষকরা। তবে ধান কাটতে গিয়ে নানা

প্রতিকুলতার মধ্যে পড়তে হচ্ছে তাদের। একদিকে জোয়ারের পানিতে জমির ধান নষ্ট হচ্ছে, অপর দিকে

ধানকাটা শ্রমিকের মজুরের সংকট। প্রতি বছর ফরিদপুর, সাতক্ষিরা, খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, বাগেরহাটসহ বেশ কয়েকটি

জেলা থেকে শ্রমিক ধান কাটতে আসলেও এ বছর তাদের দেখা মিলছে না। যে শ্রমিক এসেছে তাদেরকে দ্বিগুনেরও বেশি মজুরী দিতে হচ্ছে।

কৃষক শুক্রাচার্য বিশ্বাস জানান, এ বছর তিনি ২৫ বিঘা জমিতে বোরোধান চাষ করছেন। জোয়ারের পানি ঢুকে প্রায় ২০ বিঘা জমির ধান তলিয়ে গেছে।

পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে শ্রমিকরা ধান কাটতে চায় না। যে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে তাদের প্রত্যেককে প্রতিদিন

এক ১ হাজার থেকে ১২ শত টাকা মূল্য দিতে হচ্ছে। সারা দিনে একজন শ্রমিক যে ধান কাটে, তা বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরী দেয়াই সম্ভব হবে না।

কৃষক লিমন লস্কর বলেন, ৬ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলাম; ৬ বিঘার ধানই পানির নিচে। এ দিকে বিলে যে পানি, তাতে না চলে নাও, না চলে পাও।

এ কারণে ধান কাটার পর তা পলিথিনের উপর রেখে মাইলকে মাইল টেনে নিয়ে শুকনো স্থানে রাখতে হচ্ছে। এমন অবস্থায় ধান কেটে বাড়ি তুলতে যে খরচ হবে, তাতে করে আমাদের বাঁচা মুশকিল হয়ে পড়বে।

অপর এক কৃষক মোঃ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে আমার জমি। পানির মধ্যে সেখান থেকে ধান কেটে আনা খুবই দুরহ ব্যাপার।

আমার ৪ বিঘে জমির ধানই গজিয়ে গেছে। এ বছরে ধান তলিয়ে এবং কৃষক সংকটে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে বিলের প্রায় অর্ধেকেরও বেশি ধান কাটা সম্ভব হবে না।

ধান কাটতে আশা বেশ কয়েকজন শ্রমিক জানান, শুকনো জমিতে একজন শ্রমিক সারাদিনে প্রায় ১২ শতাংশ জমির ধান কাটতে পারে।

কিন্তু চান্দার বিলে জোয়ারের পানি ঢোকায় একজন শ্রমিক সারাদিনে ৫ শতাংশ জমির ধানও কাটতে পারছে না। এতে জমির মলিক যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, তেমনি শ্রমিকরাও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

উজানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ শ্যামল কান্তি বোস জানান, এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

কিন্তু জোয়ারের পানি কৃষকদের সব স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। বিলের মধ্য দিয়ে ১৫টি খাল রয়েছে। এ খাল দিয়েই মূলত জোয়ারের

পানি বিলে প্রবেশ করে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাল খনন ও তার মুখে সুইস গেট করতে পারলে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।

এছাড়া বোশের খাল নামে যে খালটি রয়েছে তার পশ্চিম পাড় দিয়ে বেড়ি বাধ রয়েছে। এখন খালটির পূর্ব পাড় দিয়ে বেড়ি বাধ করতে পারলে বিলের পশ্চিম প্রান্তের জমি জোয়ারের পানি থেকে রক্ষা পাবে।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. অরবিন্দু কুমার রায় বলেন, চান্দার বিলে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। শ্রমিক সংকট সমধানের জন্যও চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।