ঢাকাThursday , 5 May 2022
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. আবহাওয়া
  4. ইসলাম
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. দেশজুরে
  8. বিনোদন
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষা
  11. স্বাস্থ্য

প্রসবের সময় মা ও নবজাতকের মৃত্যু: দিব্যি ঘুরছেন সেই পশু চিকিৎসক

admin
May 5, 2022 8:21 am
Link Copied!

নেত্রকোনার বারহাট্টায় এক হাতুড়ে চিকিৎসক দিয়ে সন্তান প্রসব করানোর সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মা ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৪ মে) চন্দ্রপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে মা ও নবজাতকের দাফন সম্পন্ন হয়।

তবে এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। অভিযুক্ত হাতুড়ে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা।

মারা যাওয়া প্রসূতির নাম শরীফা আক্তার (১৯)। তিনি ওই গ্রামের বাক প্রতিবন্ধী হাইছ উদ্দিনের মেয়ে ও সুনামগঞ্জের তাহেরপুর এলাকায় মহসিন মিয়ার স্ত্রী।

আর অভিযুক্ত হাতুড়ে চিকিৎসক মো. আবুল কাশেম (৪৮) একই উপজেলার জীবনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এলাকায় পশু চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা, পুলিশ ও প্রসূতির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এক বছর আগে মহসিন মিয়ার সঙ্গে শরীফার বিয়ে হয়।

ন্তান প্রসবের সময় ঘনিয়ে এলে গত সপ্তাহে স্বামীর বাড়ি থেকে তাকে চন্দ্রপুর বাবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

বুধবার দুপুরে শরীফার প্রসবব্যথা শুরু হয়। এসময় তার বাবার বাড়ির লোকজন স্থানীয় পশু চিকিৎসক আবুল কাশেমকে বাড়িতে ঢেকে নিয়ে আসেন।

পরে আবুল কাশেম শরীফার সন্তান প্রসব করানোর সময় এপিওসটমি (আংশিক কেটে) করেন। এ সময় ভূমিষ্ঠ হওয়া নবজাতক কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান। একইসঙ্গে প্রসব পরবর্তী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শরীফার মৃত্যু হয়

এ ঘটনার পর উপস্থিত লোকজন ওই পশু চিকিৎসকের ওপর ক্ষিপ্ত হন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন মারমুখী

হয়ে উঠলে কয়কজন ওই চিকিৎসককে ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। এতে তিনি কৌশলে সটকে পড়েন।

শরীফার মা মাফিয়া আক্তার বলেন, শরীফার প্রসবব্যথা শুরু হলে আবুল কাশেমকে খবর দেওয়া হয়। তিনি রোগীকে দেখে জানান সবকিছু স্বাভাবিক আছে,

কোনো সমস্যা নাই। আমরা নেত্রকোনায় নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তার কথায় ভরসা পেয়ে আর নিইনি। আমরা সাধারণ মানুষ। ডাক্তারের কথা মতোই সব করেছি।

পরে সন্তান বের করানোর সময় জরায়ু কিছুটা কাটা হয়। কিন্তু ডাক্তারের সঙ্গে ওষুধ সেলাইন না থাকায় এগুলো আনতে একজনকে মোহনগঞ্জ পাঠানো হয়। ওষুধ নিয়ে আসার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শরীফার মৃত্যু হয়।

বারহাট্টার সিংধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসিম তালুকদার বলেন, আবুল কাশেম একজন পশু চিকিৎসক। এভাবে না জেনে বুঝে প্রসূতির সন্তান প্রসব করা তার ঠিক হয়নি। এটা তিনি অন্যায় করেছেন।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত পশু চিকিৎসক আবুল কাশেম বলেন, ‘আমি প্রসূতির সন্তান প্রসব করাতে চাইনি। পরিবারের সদস্যরাই আমাকে জোর করে এই কাজ করিয়েছে।

এপিওসটমি করার পর ওষুধ ও সেলাই আনতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আনতে দেরি হওয়ার অতিরিক্ত রক্তপাতে এ ঘটনা ঘটেছে।
অপর প্রশ্নে তিনি জানান, পশু চিকিৎসার পাশাপাশি মানুষের চিকিৎসার কোর্স তিনি সম্পন্ন করেছেন। তার সনদও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুল হক বৃহস্পতিবার সকালে বলেন, বিষয়টি শুনে গতকাল রাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল।

কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ব্যবস্থা নিতে পারিনি। এরপরও ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, বিষয়টি শুনেছি। হাতুড়ে চিকিৎসক প্রসূতিকে ডেলিভারির সময়

কোনো ধরনের অপারেশন করতে পারেন না। আমি খোঁজ নিচ্ছি, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।