ঢাকাFriday , 29 April 2022
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. আবহাওয়া
  4. ইসলাম
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. দেশজুরে
  8. বিনোদন
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষা
  11. স্বাস্থ্য

বিএনপির মৃত ও প্রবাসী নেতাও আসামি, যা বললো পুলিশ

admin
April 29, 2022 1:32 pm
Link Copied!

রাজধানীর নিউমার্কেটে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী-কর্মচারীদের মধ্যে টানা দুদিনের বেশি সময় ধরা চলা সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন দুজন। এতে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক, যার মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যও।

এ সংঘর্ষের ঘটনায় নিউমার্কেট থানায় মোট চারটি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে দুটি হত্যা মামলা। হত্যা মামলা দুটি করেছেন নিহত নাহিদ হাসানের বাবা ও মুরসালিনের ভাই। এ দুই মামলায় আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের। অন্য দুটি মামলা করেছে পুলিশ, যার মধ্যে একটি মামলায় ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ায় এবং পুলিশের ওপর আক্রমণ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে আহত ও ভাংচুরের অভিযোগে করা মামলায় নিউমার্কেট থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মকবুল হোসেনসহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলাটি করা হয় ৪৩/১৪৭/১৪৯/১৮৬/৩৩২/৩৫৩/৪২৭/৩৪ ধারায়।

মামলার অন্য যে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়, তারা হলেন- আমির হোসেন আলমগীর, মিজান, টিপু, হাজি জাহাঙ্গীর হোসেন পাটোয়ারী, হাসান জাহাঙ্গীর মিঠু, হারুন হাওলাদার, শাহ আলম শন্টু, শহিদুল ইসলাম শহিদ, জাপানি ফারুক, মিজান বেপারী, আসিফ, রহমত, সুমন, জসিম, বিল্লাল, হারুন, তোহা, মনির, বাচ্চু, জুলহাস, মিঠু, মিন্টু ও বাবুল।

এ মামলায় বিএনপি নেতা মকবুলকে আসামি করা, গ্রেফতার ও রিমান্ডে নিয়ে আলোচনা থাকলেও এখন নতুন করে বিতর্ক উঠেছে দুই আসামিকে নিয়ে। তারা হলেন- মামলার ২৩ নম্বর আসামি মিন্টু ও চার নম্বর আসামি টিপু।

বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে- এই ‘মিন্টু’ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রায় দুই বছর আগে তিনি মারা গেছেন। আর এ ‘টিপু’ ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। প্রায় সাত বছর আগে তিন জাপানি যান। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।

তবে পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা। পুলিশের দাবি- এই ‘মিন্টু’ মৃত মিন্টু নয়। এই ‘টিপু’ও জাপানে থাকা টিপু নয়। মামলায় এ দুই আসামির বাবার নাম ও স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় আসামিপক্ষের আইনজীবী নিজেদের মতো করে মিন্টু ও টিপুর পরিচয় ধরে নিচ্ছে, যা ঠিক নয়।

বিএনপির কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘এজাহারে যাদের নাম রয়েছে, তাদের সবাই বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের দায়িত্বশীল নেতা। মামলার ২৩ নম্বর আসামি মিন্টু দুই বছর আগে মারা গেছেন। চার নম্বর আসামি টিপু সাত বছর ধরে বিদেশে আছেন।’

পুলিশের সমালোচনা করে কায়সার কামাল বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ এমন একজনকে আসামি করলো, যিনি জীবিত নেই। ওনার অপরাধ হলো- বেঁচে থাকা অবস্থায় তিনি বিএনপি রাজনীতি করেছেন। এ মামলা থেকে প্রতীয়মান হয়, বিএনপির মৃত নেতারাও পুলিশের হয়রানিমূলক মামলা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না! এটা ন্যক্কারজনক।’

তিনি বলেন, ‘মকবুল হোসেনকে প্রধান আসামি করে ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে করা মামলায় ১৪ জনকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।’

তবে আসামিদের পরিচয় নিয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের মন্তব্যের সঙ্গে একমত নয় নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ ম কাইয়ুম। তিনি বলেন, ‘মামলায় যে মিন্টু ও টিপুর নাম উল্লেখ আছে, তার বাবার নাম ও পরিচয় অজ্ঞাত। সেটা মামলায় স্পষ্ট উল্লেখও রয়েছে। তাহলে আইনজীবী কীভাবে বলছেন- এ মামলার মিন্টুই বিএনপি নেতা মিন্টু, যিনি মারা গেছেন। নিউমার্কেট এলাকায় কি আর কোনো মিন্টু নেই? ওই এলাকায় কি টিপু নামে আর কেউ নেই। ’

ওসি বলেন, ‘শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী-কর্মচারীদের সংঘর্ষ পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে সংঘর্ষে চলেছে। এতে অসংখ্য মানুষ জড়িয়ে পড়েছিল। যারা অপরাধ করেছেন, তাদের মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আদালতে যে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে, সেখানে তদন্ত করেই আসামিদের নাম-পরিচয়সহ বিস্তারিত উল্লেখ করা হবে। বিনা দোষে কাউকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। মামলাটি এখনো তদন্ত চলছে। আসামিদের নিয়ে এখনই এমন বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ নেই।’

গত ১৮ এপ্রিল দিনগত রাত ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা চলে এ সংঘর্ষ। এরপর রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও মঙ্গলবার সকাল ১০টার পর থেকে ফের দফায় দফায় শুরু হয় সংঘর্ষ, যা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

এদিকে, নিউমার্কেটে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত নাহিদ হাসান ও মুরসালিনের পরিবারের পক্ষ থেকে ডিএমপির নিউমার্কেট থানায় দুটি হত্যা মামলা করা হয়। নাহিদের বাবা নাদিম হোসেন ও মুরসালিনের ভাই নুর মোহাম্মদ মামলা দুটির বাদী

এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে আরও দুটি মামলা করা হয়। এ চার মামলায় মোট আসামি করা হয়েছে এক হাজার ৫৫০ জনকে। এরমধ্যে পুলিশের একটি মামলায় বিএনপি নেতা মকবুলসহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অন্য তিনটি মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।

চারটি মামলার মধ্যে দুটি হত্যা মামলা অর্থাৎ নাহিদ ও মুরসালিন হত্যা মামলা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফলে মামলা দুটির তদন্ত করছে ডিবি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।