ঢাকাThursday , 28 April 2022
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. আবহাওয়া
  4. ইসলাম
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. দেশজুরে
  8. বিনোদন
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষা
  11. স্বাস্থ্য

হাতের তালুতে ভর করে স্নাতক পাস, ইসমাইলের স্বপ্ন এবার ‘বিসিএস’ জয়

admin
April 28, 2022 12:02 pm
Link Copied!

ইসমাইল রহমান (২৬)। তার আছে হাত ও পা। কিন্তু কিছুই স্বাভাবিক না। দুটি পা আর দুটি হাত অকেজো।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে থামাতে পারেনি। এই অকেজো হাতের তালুতে ভর করেই সর্বোচ্চ ডিগ্রি মাস্টার্সে অধ্যয়ন করেছেন।

অসম্ভবকে সম্ভব করেই তিনি প্রমাণ করেছেন অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে অসম্ভব বলে কোনো কিছু নেই। কারো দয়া ও অনুগ্রহ নয়, আত্মনির্ভরশীল এগিয়ে যেতে চান ইসমাইল।

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের পশ্চিম সমসাবাদ গ্রামের বাবুল হোসেন ভুলু’র তিন সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় ইসমাইল।

১৯৯৬ সালে ইসমাইলের জন্ম হয়। জন্মের পর থেকে পরিবারের সদস্যরা মনে করতেন অন্যদশ জনের মতো ইসমাইলও স্বাভাবিক।

কিন্তু জন্মের ১৩ মাসেও হাঁটতে না পারায় দুশ্চিন্তায় পড়েন বাবা মা। এরপর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে চিকিৎসক জানান ইসমাইল অন্যদের মতো স্বাভাবিক না সে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী।

গোটা পরিবার একসময় ইসমাইলের জন্য দুশ্চিন্তায় পড়লেও এখন ইসমাইলকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছে বাবা মা।

শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও ইসমাইলকে কোনো কিছুই দমাতে পারেনি। অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মেনেছে প্রতিবন্ধকতা।

কখনো কখনো মায়ের কোলে চড়ে স্কুলে যাতায়াত শুরু হয় ইসমাইলের। রোদ, বৃষ্টি, ঝড় কোনো কিছুই তাকে স্কুল থেকে দূরে রাখতে পারেনি।

এভাবেই ২০১২ সালে নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০১৪ সালে সরকারি দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ থেকে

এইচএসসি পাস করেন এবং একই কলেজ থেকে ২০২০ সালে অনার্স শেষ করেন। বর্তমানে মানিকগঞ্জের সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ মাস্টার্সে অধ্যয়রত।

শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও ইসমাইলের স্বপ্ন এবার বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার। কোনো সহায়তা চায় না ইসমাইল।

নিজের মেধা অনুযায়ী সরকারি একটি চাকরির স্বপ্ন তার। অবজ্ঞা অবহেলা আর শত বঞ্চনার মাঝেই তার বেড়ে ওঠা।

তবুও হাল ছাড়েননি তিনি। হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে চলেছে তার শিক্ষা জীবন। কৈশোরে দূরের গ্রাম থেকে নিয়মিত স্কুলে আসতেন তিনি।

প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক, মাধ্যমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করে এখন তিনি স্নাতক। চলছে স্নাতকোত্তর লেখাপড়া। ইসমাইলের মা ইয়াসমিন বাবুল বলেন,

‘প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে অনেক কষ্ট করে নিজেই ক্লাসে নিয়ে গেছি। বৃষ্টির মৌসুমে ক্লাস করতে অনেক কষ্ট হয়েছে। ছেলের ইচ্ছা সরকারি চাকরি করার,

তাই সরকারের প্রতি তার আকুল আবেদন যেন তার ছেলেকে একটি সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।

ইসমাইলের বাবা বাবুল হোসেন ভুলু বলে, ‘আমি গর্বিত এমন একটি ছেলের জন্য। যে কিনা শত প্রতিবন্ধকতায়ও থেমে থাকেনি। আমাকে অনেগুলো সার্টিফিকেট উপহার দিয়েছে।

আমি চাই আমারছেলের মেধা অনুযায়ী একটি সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা হোক।

এতেই আমি সরকারের প্রতি সন্তুষ্ট হবো। এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকতা মিজানুর রহমান বলেন,

‘ইসমাইলের ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়েছি। তাকে ইতিমধ্যে একটি প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ডের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী একটি চাকরির ব্যাপারে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করবো।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।