সঠিক চাষাবাদই নিশ্চিত করে অধিক ফলন

পুষ্টিকর সবজি । লাভজনক হওয়ায় এটি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন চাষি। আজকের আয়োজন এর নানা দিক নিয়ে একধরনের মিষ্টি বলা হয়। এর আকার প্রায় টমেটোর মতো। বিশ্বে টমেটোর পর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সবজি হিসেবে ধরা হয় একে। সবজিটি বাংলাদেশে তেমন প্রচলিত না হলেও ইদানীং এর চাষ হচ্ছে কয়েক স্থানে। মূলত শীতপ্রধান দেশে ভালো । সে হিসেবে বাংলাদেশে শুধু শীতকালে স্বল্পপরিসরে এটি চাষ করা হয়। নানা রঙের হয়ে থাকে। দেশে সবুজ ছাড়া অন্য রঙের দেখা যায়। তবে তুলনায় কম। কেননা, রঙিন চাষ করতে চাইলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হয়। জলবায়ু ও মাটি আবহাওয়া ক্যাপসিকামের জন্য । আবার শীতকালীন ফসল হলেও অতিরিক্ত ঠাণ্ডা করতে পারে না। সাধারণত ১৬ থেকে ২৫ চাষের জন্য উপযুক্ত। এর কম বা বেশি হলে গাছে ফুল আসে না বা পড়ে। চাষের জন্য দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি ভালো। জাত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বারি মিষ্টি বারি মিষ্টি নামে দুটি জাত উদ্ভাবন করেছে।

তবে বাংলাদেশে বারি মিষ্টি জাতটি চাষ করা হয়। এটি ২০০৯ সালে অবমুক্ত করা হয়। উজ্জ্বল সবুজ বর্ণের টমেটো আকৃতির এ পাকলে লাল বর্ণের হয়। প্রতিটি গাছে সাত থেকে আটটি ফল ধরে। বাংলাদেশের সবখানে এটি চাষ করা যায়। সময় বোনার উপযুক্ত সময় সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত। তবে সেপ্টেম্বরের শেষে বপন ও অক্টোবরের শেষে চারা রোপণ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। অবশ্য বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে সারা বছরই চাষ করা সম্ভব। গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য পলিথিন ছাউনি কিংবা পলি হাউজের মাধ্যমে চাষ করা যেতে পারে।প্রথমে একবার চাষ করে দিয়ে আবার দুবার চাষ করতে হবে। চাষের পর মই দিয়ে জমি ভালোভাবে তৈরি করে নিতে হবে। এরপর বেড তৈরি করতে হবে। প্রতিটি বেড চওড়ায় দুই দশমিক পাঁচ ফুট হলে ভালো। দুই বেডের মাঝখানে নালা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। সরাসরি বীজ বপন করে চাষ করা যায় অথবা বীজ থেকে চারা গজিয়ে উঠলে নির্ধারিত জমিতে রোপণ করতে পারেন।

প্রতি শতকের জন্য এক গ্রাম বীজ দরকার। বীজ থেকে প্রথমে চারা তৈরি করে নিতে হয়। এজন্য বীজগুলোকে ১২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর বীজতলায় লাইন করে বীজ বুনতে হবে। বীজ বোনার সাত থেকে ১০ দিন পর চারা তিন থেকে চারটি পাতা হলে মাঝারি আকারের পলিথিন ব্যাগে চারা স্থানান্তর করে জমিতে লাগাতে হবে। চারা তৈরি করা বেডে এক দশমিক পাঁচ ফুট দূরত্বে রোপণ করতে হবে। এ সময় জৈবসার দিতে হবে। গাছ একটু বড় হয়ে গেলে ইউরিয়া সার দিতে হয়। দেড় মাস পর মিশিয়ে জমিতে ছিটিয়ে দিতে হবে। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত রাতের তুলনামূলক কম থাকে। এ সময় পলিথিনের ছাউনি দিয়ে রাখলে ভেতরের স্বাভাবিক থাকে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *