ঢাকাThursday , 31 March 2022
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. আবহাওয়া
  4. ইসলাম
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. দেশজুরে
  8. বিনোদন
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষা
  11. স্বাস্থ্য

স্ত্রীকে সন্দেহ, বিষাক্ত ইনজেকশনে সন্তান হত্যার অভিযোগ

admin
March 31, 2022 9:01 am
Link Copied!

চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে সন্দেহের জেরে বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করে সন্তানকে (আড়াই মাস) হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা ইখলাছ উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার সকালে শহরের মাঝের পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাতেই চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা করা হয়েছে।

গ্রেফতার ইখলাছ আলমডাঙ্গা উপজেলার আঠারোখাদা গ্রামের বাসিন্দা।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম স্ত্রীর সন্তান না হওয়ায় ইখলাছ উদ্দিন চার বছর আগে একই উপজেলার সোনাতনপুর গ্রামের আব্দুল মোমেনের মেয়ে মিতালী খাতুন মিতাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

 

ইখলাছের প্রথম স্ত্রী আঁখি খাতুন নিঃসন্তান; বাড়িতে থাকেন। বিয়ের পর থেকে দ্বিতীয় স্ত্রী মিতাকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা শহরে থাকেন ইখলাছ। আড়াই মাস আগে তাদের কোলজুড়ে আসে পুত্রসন্তান। নাম রাখা হয় ইকবাল।

 

বুধবার সকাল ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গার ভাড়াবাড়িতে শিশু ইকবাল অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শিশু ইকবালকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন চিকিৎসক। সেখানে নেওয়ার পথে মারা যায় শিশু ইকবাল।

 

শিশু ইকবালের মা মিতালী খাতুন মিতা অভিযোগ করে বলেন, আমার অন্য এক জায়গায় বিয়ে হয়েছিল। পারিবারিক কলহের কারণে বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। আগের পক্ষের দুই ছেলে হাসান ও হোসাইন আমার বাবার কাছে থাকে। চার বছর আগে প্রথম স্ত্রীর কোনো সন্তান না হওয়ায় ইখলাছ আমাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে তিনি আমাকে সন্দেহ করতে থাকেন। পরে আমাদের কোলজুড়ে আসে এক ছেলেসন্তান। ওই ছেলে তার নয় বলে মনে করেন ইখলাছ।

 

মিতা আরও বলেন, বুধবার সকালে বাড়ির কাজ করছিলাম। সেই সময় ইখলাছ ছেলেকে কোলে নেয়। হঠাৎ সুস্থ ছেলে কেঁদে ওঠে। পরে গিয়ে দেখি আমার ছেলের বাম পা দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। ইখলাছের কাছে জানতে চাইলে তিনি টিকা দেওয়ার স্থান থেকে রক্ত বের হচ্ছে বলে জানান।

 

পরে চিকিৎসকের কাছে যাই। চিকিৎসক জানান, টিকা দেওয়ার স্থান থেকে কোনো রক্ত বের হয়নি। ছেলের বাম পায়ের অন্য স্থানে একটি ইনজেকশন পুশ করার চিহ্ন রয়েছে। সেখানে ফুলে গেছে। বাম পায়ে বিষ মিশ্রিত ইনজেকশন পুশ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মিতা অভিযোগ করেন।

 

মিতা বলেন, এরও ১৫ দিন আগে আমার ছেলে ইকবাল অসুস্থ হলে তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাই। সেখান থেকে একটি সিরাপ কিনে চার দিন খাওয়াই। ৫ দিনের দিন সেই সিরাপ থেকে বিষের গন্ধ পাই। সন্দেহ হলে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে তাকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করাই। কে বা কারা আমার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে ওষুধে বিষ মিশিয়ে রেখেছিল সে সময় বুঝতে পারিনি।

 

বাসামালিক সাইফুল ইসলাম পলাশের স্ত্রী শিল্পী খাতুন ও প্রতিবেশী শরিফুলের স্ত্রী লতা খাতুন বলেন, বুধবার সকালে শিশু ইকবাল ও তার মায়ের কান্না শুনে তার কাছে যাই; দেখি শিশুটি খুব কাঁদছে এবং তার পা দিয়ে রক্ত ঝরছে।

 

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবুর রহমান মিলন জানান, বুধবার দুপুরে শিশু ইকবালকে আমার কাছে নিয়ে আসা হয়। তখন শিশুটির অবস্থা খারাপ ছিল। শিশুটির খিঁচুনি হচ্ছিল। তার মা বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করার অভিযোগ করছিলেন। শিশুটির বাম পায়ে একাধিক ইনজেকশন পুশের চিহ্ন ছিল। শিশুটির শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়।

 

তবে শিশুটির পায়ে কোনো ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে কি না তা ময়নাতদন্ত ছাড়া বলা যাবে না।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সাইদ বলেন, অভিযুক্ত ইকলাছকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুরতহাল শেষে শিশুর লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।