আগের চেয়ে বেশি শক্তি নিয়ে ফিরছে তালেবান


আগ্রাসনের ২০ বছরের মাথায় আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো। শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে আগ্রাসন শুরু হলেও সহিংসতা বেড়েই চলছে দেশটিতে। গ্রামের পর গ্রাম দখলে নিচ্ছে তালেবান- এমন খবর প্রতিদিনই আসছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।

তালেবান খুব দ্রুত আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখলে নিতে পারে- এমন খবরও শোনা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার মধ্যে তালেবানে আফগানিস্তানের ২০০ এর বেশি জেলা দখলে নিয়েছে। এ ছাড়া দখলে নিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর, সীমান্তবর্তী জেলা।

এখনও দেশের অসংখ্য জেলায় তারা লড়ছে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তালেবান রয়েছে আলোচনার টেবিলেও।

তালেবানের অব্যাহত আক্রমনে বিনা প্রতিরোধে মাঠ ছাড়ছে আফগান সেনারা। শুধু তাই নয় অনেকে আবার এলাকা, এমনকি দেশ ছেড়েও পালিয়ে যাচ্ছে।

আফগানিস্তানের ক্ষমতা থেকে হটিয়ে দেওয়ার দুই দশকের মধ্যে গত দুই মাসেই তালেবান দেশটির সবচেয়ে বেশি এলাকার দখল নিতে সক্ষম হয়েছে।

গত দুই মাসে আফগানিস্তানের অনেক এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান, যা ২০০১ সালে পর যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। তালেবান যোদ্ধাদের চাপে টিকতে না পেরে সরকারি বাহিনী বেশকিছু জেলার প্রশাসনিক কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিয়েছে; বাকিগুলো বিদ্রোহীরা লড়াই করেই দখলে নিয়েছে।

বিবিসির আফগান সার্ভিসের গবেষণা উঠে এসেছে, গজনি, মাইদান ওয়ার্দাকসহ আফগানিস্তানজুড়ে এখন সরব উপস্থিতি তালেবান যোদ্ধাদের। এ ছাড়া কুন্দুজ, হেরাত, কান্দাহার ও লস্কর গাহসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে তালেবান।

২০১৭ সালে বিবিসির এক গবেষণায় উঠে আসে, আফগানিস্তানে কিছুসংখ্যক জেলা তালেবানের নিয়ন্ত্রণে। গবেষণায় এ-ও উঠে আসে, দেশটির আরও অনেক এলাকায় তালেবান সক্রিয়। তারা কিছু এলাকায় সপ্তাহ বা মাস ভিত্তিতে হামলা বাড়াচ্ছে। ওই সময়ই ইঙ্গিত পাওয়া যায়, পূর্বধারণার চেয়ে তালেবানের শক্তি বেশি।

কিন্তু সে অবস্থাও এখন বদলে গেছে। এখন নতুন নতুন এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে তালেবান। কোনো কোনো এলাকা থেকে আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনী পালিয়েছে। কোনো কোনো এলাকা ছাড়তে সরকারি বাহিনী বাধ্য হয়েছে।

আবার সরকার বিভিন্ন এলাকায় তাদের বাহিনী বা মিলিশিয়া পুনরায় মোতায়েন করতেও সক্ষম হয়েছে। কিছু কিছু এলাকা আফগান বাহিনী নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়েছে। আবার কিছু কিছু এলাকায় এখনো লড়াই চলছে।

এই যখন পরিস্থিতি, তখন মার্কিন বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য আফগানিস্তান ছেড়ে গেছেন। শুধু কাবুলে নিরাপত্তার জন্য কিছু সেনা রয়ে গেছে। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ার প্রেক্ষাপটে কিছুদিন ধরে তালেবানের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালাচ্ছে মার্কিন বিমানবাহিনী।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *